Saturday, March 08, 2014

মধুবন্তী

প্লেনে ওঠার আগ মুহুর্তে ওয়েটিং রুমে বসে আছি। এরকম কখনও হয় নি, আমার সত্যিই মনে হচ্ছিলো, গতকাল আমি দেশে এসে পৌঁছালাম, আর পরের দিনই ফিরে যাচ্ছি মেলবোর্ণের উদ্দেশ্যে। তিন বোন মিলে কত বেদনাময় তবুও আনন্দের সময় একে অপরকে জড়িয়ে রইলাম। কোন ফাঁকে কেটে গেলো একটা মাস?! দেশ থেকে ফেরার পথে আমি সাধারণত খুব রিচার্জড থাকি, বাকি কয়েকটা মাস দেশের আনন্দময় সময়ের স্মৃতি মাথায় নিয়ে পার করে দিবো, তারপরে এক বছরের মধ্যে আবার দেশে, এমন মনে হয়। এবার তেমন হলো না। এবারের দেশে আসাটা যে অন্য রকম ছিলো...।

একলা বসে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে ওঠে বারবার। ঠিক তখন পাশে বসে থাকা মহিলা তার মেয়েকে ডাকেন, “ মধুবন্তী”। আমি আনমনেই বলি তাকে, “এত সুন্দর নাম রেখেছেন মেয়ের?” খুব মিষ্টি, মায়া মায়া গর্বের হাসি হাসেন সেই মা। বলেন, “ সবাই বলে। আমি না, আমার মায়ের রাখা নাম।” বলেই একটু থামেন, খুব নরম গলায় বলেন, “খুব সুন্দর মন ছিলো আমার মায়ের”। বুঝতে পারি তার মা বেঁচে নেই। সাথে সাথে তার চেহারা আর কন্ঠের কোমল কষ্ট বড্ড বেশি পরিচিত লাগে আমার। ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে নিই আমি, তিনিও। বোধ হয় কেউ কারো চোখের জল কাউকে দেখাতে চাই না।

এর মাঝে ডাক পরে প্লেনে ওঠার। হাঁটতে হাঁটতেই মনের মধ্যে নামটা গুনগুন গুনগুন করতে থাকি, “মধুবন্তী, মধুবন্তী”। আহ কি মিষ্টি, মধুময় নাম! আমার বাচ্চাকাচ্চার খবর নেই, এর মাঝে এক গাদা নাম ঠিক করে রেখেছি, সেই লিস্টে আরেকটা যোগ হলো, মধুবন্তী! তক্ষুনি মনে পড়ে আমার জানের বান্ধবীর মেয়ের নাম “ মন্ময়ী মধুরিমা”, এর মাঝে মন্ময়ী নাম রেখেছে তার ফুপু আর মধুরিমা রেখেছি আমিই। নিজের অজান্তেই হেসে ফেলি, বাহ দুই বান্ধবীর মেয়ের নামই মধুমাখা! এসব ভাবতে ভাবতেই নিজের সিটে বসে গেছি। একটু পরে প্লেন ছেড়ে দিবে তখন হঠাৎ কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে মধুবন্তীর মা এসে দাঁড়ালেন আমার সামনে, “আচ্ছা আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে আমার। আপনি কি তন্বীকে চেনেন?” তন্বী আমার সেই বান্ধবীর নাম যার মেয়ের নাম মধুরিমা! আমি তক্ষুনি মুহুর্তের মধ্যে আগের জানা কিছু তথ্য আর সাত-পাঁচ মিলিয়ে চিনে ফেলি এই আপুকে, ইনি মধুরিমার ফুপু! পৃথিবীর দুই প্রান্ত থেকে “মন্ময়ী” এবং “মধুরিমা” এমনি করে “মন্ময়ী মধুরিমা” হয়ে গেলো। কি ছোট্ট আর চমক লাগানো একটা পৃথিবী আমাদের, না?

Friday, February 24, 2012

Hello!

The Day I lost my mother,
You told me something seemed to be very weired..
You said, “don’t cry sweetheart, I’ll love you like your mother”

People may think how a boyfriend could possibly love someone like her mom!

But I believed you,
Cause I knew how much you love me
And I knew you can love me in every possible way.
And you proved it my darling.
Today I see you are my that old friend,
Who became a lover day by day..
and even can care for me as my mother!

I feel it
when you push me for something,
though I hate it,
(knowing I would actually love it later!)
To cover that up you then do something that makes me relaxed
and not to feel to be pushed!
Then you silently keep doing what you needed to do...
Saying nothing you then say so much my dear..

I still believe you like that day,
I just don’t have any idea how you do all that!
And I’m a poor girl...
can’t do anything... as you do,
but only loving you like hell!
I don’t even have a perfect word,
Or at least an expression to thank you.
I would rather be angry for nothing,
and blame you for a lot of things,
which you don’t deserve at all.
But believe me,
Deep in my heart, I want to thank you, my love!
For being my best friend, my beloved
and...my mother!

Just give me one more minute.
Can I tell you something?
Something, which is..you know...
so much cliche for being over used.
You know what I mean
I know what I’m gonna say
So whats point of saying that
....I love you!

Monday, September 26, 2011

মন কেমন করে

"মন কেমন করে"... এই কথাটা কেমন করে বলে গিয়েছিলো রবীন্দ্রনাথ? অনেকক্ষন ধরে শুয়ে ছিলাম, চোখ জুড়ে প্রচন্ড ঘুম। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই ঘুম উধাও। আর মন...সে যে আজ কেমন করছে। যখন বুঝতে পারলাম, আজ আর ঘুম আসবে না, ঠিক তখন হঠাৎ ভীষন পড়তে ইচ্ছা করতে শুরু করলো। নিজেই খানিক অবাক হলাম, গত কয়েক বছরে এরকম কিছু খুচরো সময় হাতে পেলেই ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ি। ফেসবুক...ঘুরতে থাকি। নয়ত গুগলে ঢুকে নানান বিষয়ে সার্চ দিয়ে খোঁজখবর নেই। আর যদি ইউটিউবে ঢুকে পড়ি তাহলে তো কথাই নেই। আজ এই সব কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করলো না। খুব গান শুনতে ইচ্ছা করছে। মোবাইল থেকেই সোজা কবীর সুমনের রবীন্দ্রসংগীত চালিয়ে দেই, "নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে"। আর তখুনি হঠাৎ করেই যেন কিছু একটা ক্লিক করে উঠলো মনের মধে। শরীরজোড়া আলস্য ভেঙ্গে উঠে গিয়ে আমি অনেক আগের পড়া প্রিয় একটা বই দিয়ে এলাম পড়ব বলে, হুমায়ূন আহমেদের "দেবী", সাথে শান্তিমাখা সব রবি ঠাকুরের গান। ঠিক তার আগে ফেসবুকে দুম করে চোখ পড়তেই দেখি ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র বন্ধু তার ছোট বোনের সাথে একটা ছবি তুলে প্রোফাইলে পিকচার হিসেবে দিয়েছে, নিচে লিখেছে, "আমার জানবাচ্চা"- আর ওমনি কোথা থেকে রাজ্যের সব পানি এসে আমার ঘুম-চোখ ভরে ওঠে!

Tuesday, March 22, 2011

চিরন্তন

চুলে ইচ্ছামতন তেল দিলাম একটু আগে।

এক সময় চুলে তেল দিতে এত বিরক্ত লাগতো! মামণি জোর করে ধরে চুলে তেল দিয়ে দিত, দেয়া শেষে তেলমাখা হাত কপালে আর গলায় ঘষে দিতো। আমি রাগে-বিরক্তিতে চিৎকার উঠতাম আর আম্মু বলতো, "আরে বুঝবি না, এত পড়াশুনা করিস, আরাম লাগবে দেখিস"। আমি প্রাণপণে ঘষে কপাল আর ঘাড়ের তেল তোলার চেষ্টা করতাম আর ভাবতাম, চুলে দিয়েছে দিক, কপাল-ঘাড়ের ব্যাপারটা কি?! বলা বাহুল্য, পরদিন চুলের শ্যাম্পুটাও আম্মুই করে দিতো।


এখন আর এই সবের বালাই নেই। সেই স্বার্থহীন ভালোবাসা, শত মুখঝামটা সহ্য করেও কেবল মঙ্গলই চেয়ে যাওয়া... সেই সব রূপকথার মত স্মৃতি হয়ে গেছে সব। এখন শুধু এতটা বয়সে আম্মুর সেই সব বিরক্তিকর আদর, ভালোবাসা আর যত্নের জন্য মাঝে মাঝে নিজেকে এত বেশি কাঙাল মনে হয়! একটাবার, কোনভাবে, যেকোনভাবে যদি তার কাছে যেতে পারতাম... যত দূর হোক, শুধু যদি সেটা হতো এই পৃথিবীর কোন একটা জায়গা, আমি গিয়ে তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকতাম। মাগো, কত খারাপ ব্যবহার যে করেছি, কত মুখে মুখে তর্ক, বেয়াদবী, তোমার আদরের মূল্যটুকুই দিই নি কখনও। আর ক'টা দিন সময় দিতে মা, আরেকটু বড় হতাম, আরেকটু বুঝতে শিখতাম... আর যদি জানতাম তুমি এমনি করে চলে যাবে... বড় কষ্ট মামণি বুকের ভেতরে, বড় ফাঁকা- প্রতিটা মুহুর্তে, প্রতিটা ছোট ছোট ঘটনায়, শুধুই তোমার কথা মনে পড়ে...

আজ চুলে তেল দিয়ে কপালে আর ঘাড়েও মেখে দিয়েছি। তুমি কি দেখে একটু খুশি হলে? তোমার মেয়েটার একটুখানি আরাম হলো!

Tuesday, August 17, 2010

গঙ্গাফড়িং

শরীর খারাপ, সর্দি ভীষন, বেশ কয়েকদিন ধরেই। ভাগ্যিস, অসুখটা উইকেন্ডেই বেড়েছিলো, তাই রেস্ট নিতে পারলাম। আর আজ সিক কল দিয়ে দিলাম, টানা তিন দিনের অবসর। শরীরটা এখনও ভালো নেই। অষুধ খেয়েছিলাম, সেহেরীর আগে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হত, ঘুমটা সর্দির জন্য খুব ভালো কাজে দেয়। কিন্তু আজ কেমন যেন কি হয়েছে...তেমন অবশ্য কিছু না, ওই তো বাবার কথা খুব মনে হচ্ছে। বোকার মত বাবাকে একটা এস.এম.এস. ও দিয়ে ফেলেছি গলা ভেঙেছে বলে। আর তার সে কি টেনশান...আজ সবার সাথে ভীষন কথা বলতে ইচ্ছা করছে, তাই ধুমিয়ে এস.এম.এস. করে যাচ্ছি সবাইকে, গলাটা এরকম ভেঙ্গে না গেলে অনেক কথা বলা যেত। আর এখন খুব হাস্যকর ভাবে নিজের পুরনো লেখাগুলো পড়লাম বসে বসে। ব্লগস্পটেও যে কত ড্রাফট জমে আছে আমার! এই লেখাটাও একটা ড্রাফট হয়ে যেতে পারে শেষ মেষ কে জানে...হা হা হা।

খুব লিখতে ইচ্ছা করছে কিছু যেন। একটা কোন গল্প। পুরনো গল্পগুলো পড়লাম, মাত্র কয়েকটাই, কিছুই হয় নি সেগুলো। তবু মায়া মায়া চোখে তাই পড়লাম। এখন যদি একটা এরকম কিছুই না-ও লিখতে পারতাম...কি যে একটা শান্তি হতো মনে।

Sunday, July 11, 2010

ওয়াকা ওয়াকা এ ও...

রাত জেগে বিশ্বকাপের খেলাগুলোও দেখে চলছি নিয়মিত। খেলা দেখা মিস করতে আমি কিছুতেই রাজী না। আফটার অল, ইট হ্যাপেনস ওয়ান্স ইন ফোর ইয়ারস! পাড়ার মাঠের খেলা নাকি, বিশ্বকাপ বলে কথা। অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতে খেলা দেখে বাংলাদেশের মত মজা আর কই? খেলা শুরু হবার সময় বেশ এক্সাইটেড হয়ে অফিসের সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করি, "বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া তো আছেই, আর কোন দল তুমি সাপোর্ট কর?" ব্যাটারা কিছুক্ষন বোঝেই না, চোখ কুঁচকে অবশেষে উলটা প্রশ্ন করে, "সকার"? মেজাজটা এমন খারাপ হয়, বিশ্বকাপ তো সকারেরই চলছে, ঢং! অবশ্য এদের বলে আর কি হবে? এরা ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও ক্রিকেটে উৎসাহ নেই, আর তো ফুটবল। সারা বছর আছে শুধু ফুটির তালে।

এখানে খেলাগুলোর টাইমিং খুব ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। রাত বারোটা এবং ভোড় সাড়ে চারটায় হয় খেলাগুলো। সাড়ে চারটার খেলা শেষ হয় ভোর সাড়ে ছয়টায়! কখনও এক ঘুম দিয়ে উঠে খেলা দেখি, কখনও একবারে খেলা দেখে ঘুমাই। ইনফ্যাক্ট আমি অবশ্য বেশিরভাগই টানা জেগে থাকি, যেমন আজ আছি। এমন ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেছে, এখন খেলা না থাকলেও ঘুম আসে না রাতে। সারা রাত ধরে জেগে থাকি, পরের দিন অফিসে যাই প্রচন্ড মাথা ব্যথা আর চোখ ব্যথা নিয়ে। আজকের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা না দেখলেও চলতো। কিন্তু আছেই আর মোটে দুইটা ম্যাচ, তারপর তো আবার চার বছর। ততদিনে তো মইরাও যাইতে পারি!

------------------------------------------------
এই পর্যন্ত লিখে খেলার সময় হয়ে গিয়েছিলো সেদিন। পুরো ম্যাচ এত চমৎকার খেলেও উরুগুয়ে শেষমেশ হেরে গিয়েছিলো জার্মানীর কাছে। তবে খেলাটা দেখার মত হয়েছিলো। অন্তত ফাইনাল খেলার মত কনফিউজিং ছিলো না...কনফিউজিং এই অর্থে যে ওটা ফুটবল ছিলো নাকি রেসলিং এটা বুঝতেই প্রথমার্ধ শেষ হয়ে গেলো। স্পেনের এত সুন্দর খেলাটা নেদারল্যান্ডের খেলোয়ারদের কাছে মার খেয়ে খেয়ে তালই খুঁজে পাচ্ছিলো না যেন। দ্বিতীয়ার্ধ থেকে একটু মারামারি কমলেও থামে নি। যাক, ধারাবর্ণনায় কাজ কি? ফাইনালি স্পেন যে শেষ মুহুর্তে গোলটা দিয়ে জিততে পেরেছে এতেই আমি খুশি, শুধু এজন্য নয় যে আমি ফাইনালে স্পেনের সমর্থক ছিলাম, বরং এজন্য যে ওরা আসলেই এবারের কাপটা ডিজার্ভ করে। অবশ্য নেদারল্যান্ডও ফাইনাল ছাড়া টুর্নামেন্টের বাকি খেলায় অপরাজিতই ছিলো। আর খুব ভালো লেগেছে এই মারামারির পুরো ম্যাচে নেদারল্যান্ডের রোবেনের একার দলকে টেনে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা। খেলা শেষ হয়ে যাবার পরে পরাজিত দলের জন্য আমার কেন যেন বরাবরই খুব খারাপ লাগে। কতগুলো কান্নাভেজা, ভীষন হতাশ, যেন সব হারানো সারি সারি মুখ...। খেলা দেখতে এত ভালো লাগে, শুধু এই একটা ব্যাপারই কষ্টের, প্রতিটা খেলায় কাউকে না কাউকে হারতে হয়। হারতেই হয়।

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো। আমার রাত জেগে থাকা এখনও বন্ধ হচ্ছে না। নিয়ম করে ভোর ছয়টা পর্যন্ত জেগে থাকি। ফুটবলীয় জেটলেগ!

Thursday, March 18, 2010

নিঃশব্দে

সংগীর অভাব আমার হয় নি কোনদিনই -
এই যে দেখো
বইয়ের তাকে আর একটুখানি জায়গাও নেই অবশিষ্ট।
গানের জলসায় যাওয়া হয় না আজকাল ঠিকই,
তাই বলে গান শুনি না ভাবো না নিশ্চয়ই!
গানের বাজারজাতকরণ ব্যাপারটা মন্দ নয় কি বল?
যদিও ইদানিং আগের মত
খবরের কাগজে খুঁজি না
আজ কোথায় কখন কোন নাটকের শো চলছে,
অথবা ভালো লাগা মুভির ফেস্টিভাল।
কিন্তু সব আছে ডিভিডি হয়ে,
হাতের কাছেই অন্য সব কিছুর মতই।
আর আছে বিশ্বজোড়া জাল ছড়ানো এক গণকবাক্স।

এত কিছু নিয়ে
কাটানোর মত সময়গুলো
অতিরিক্ত হয়ে যায় নি কখনই তাই আমার জন্য।
বুঝতে পারছো তো?

তোমাকে আজকের ব্যস্ত বিকালটার কথাই বলি নাহয়--
আজ কি হলো জানো?
বিকাল বেলা হঠাত সে কি উত্তাল বাতাস! ঝড় !
আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই
ভীষণ বাতাসে আমার স্কার্টের ঝুল গোল হয়ে ফুলে উঠলো!
ঠিক ছোট্টবেলায় যেমন ঘরের কোনায় দাঁড়াতাম
ফ্যানের বাতাসে ফ্রকের ঝুল ফোলাতে!
আর ঠিক তখনই আমার একটুখানি, হ্যা খুব একটুখানিই
তোমার কথা মনে হলো...
ধানমন্ডি লেকে বেড়াতে গিয়ে একদিন
হঠাত এমনি ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম আমরা,
তোমার মনে পড়ে?
সবাই যখন ছুটোছুটি করে আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত,
তখন তুমি আর আমি হাত ধরে লেকের পাড়ের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে!
আমি সেদিন কেন যেন শাড়ি পড়েছিলাম,
ঝড়ো বাতাসে
পতপত করে উড়ছিলো আমার লাল টুকটুকে শাড়ির আঁচল...।

এই তো, এইসব স্মৃতি রোমন্থনের ব্যস্ততায়ই
কেটে গেলো আমার আজকের বিকেল,
অন্য আর সব দিনের মতই।

এবার বলো তো, তোমাকে ভাবার বিলাস
তবু কেন কাঁদাবে আমায়?
সময় কোথায় আমার তেমন!

কিন্তু কি আশ্চর্য!
প্রতিটা দিনের শেষে কেন যেন রাত নামে।
নামেই,
রোজ।
আর আমার সারাদিনের নিজস্ব সংগীদের
ঠিক সেই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শত্রু মনে হয়।
আমার ভীষন ব্যস্ততার আলগা মুখোশ
এক নিমেশে খসে পড়ে।
আমার চিতকার করে বলতে ইচ্ছা করে --
আমার এসব কিচ্ছু চাই না
কিচ্ছু না!

আমার--
শুধু তোমাকে চাই!

------------------------------------------
২০০৭-এর কোন এক ভোরে ভুতের প্রভাবে লেখা হয়েছিলো এই জিনিস। দিন তারিখ মনে থাকার কথা নয়, কিন্তু সামহোয়ারইন ব্লগে পোস্ট করেছিলাম বলেই জানা গেলো সময়টা ২৪মে, ভোর ৪টা ৩ ছিলো। থাকুক এখানে, নিজের ব্লগে।